আজাদি না গোলামি ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটেই চূড়ান্ত ফয়সালা হবে: জামায়াত আমির

আজাদি না গোলামি ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটেই চূড়ান্ত ফয়সালা হবে: জামায়াত আমির

কোনো ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য নয় বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এই রাজনৈতিক লড়াই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদীয় প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নির্ধারণ করবে দেশ স্বাধীনতার পথে এগোবে, নাকি আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে মিরপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, এই ভোট শুধু সরকার গঠনের নয়; এই ভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে— দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির রাজনীতি চলবে কি না, আর দেশের মায়েরা নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবেন কি না।

বক্তৃতার শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে গত সাড়ে ১৫ বছরে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মরণ করেন। কঠিন সময়ে নির্যাতিত মানুষের পাশে যারা দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে। এই নির্বাচন হবে ‘আজাদি’ তথা মুক্তির পক্ষে, না কি ‘গোলামি’ বা পরাধীনতার পক্ষে—সেই সিদ্ধান্ত নেবে জনগণই। এই ভোট হবে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে এবং সিন্ডিকেট, লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে একটি গণরায়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা দুর্নীতি করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নেও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন নতুন কোনো লুটেরা শ্রেণি তৈরি হতে না পারে, সে জন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নিজেদের ভাগ্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “আমি কোনো দলের বিজয় চাই না, আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।” অতীতে ব্যক্তি বা পরিবারকেন্দ্রিক শাসন দেশের মানুষের শান্তি, কর্মসংস্থান কিংবা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, তাদের লক্ষ্য কোনো গোষ্ঠীর শাসন কায়েম করা নয়, বরং একটি প্রকৃত ‘জনগণের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্যের মাধ্যমেই বিজয় আসবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *